logo
বুধবার , ২৩ নভেম্বর ২০২২ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদক
admin
নভেম্বর ২৩, ২০২২ ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ

যশোরে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য দেবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এর মধ্যে দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু করবেন। এ জনসভায় তিনি তাঁর আমলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন নানা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দেবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

যশোর স্টেডিয়াম মাঠে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই স্টেডিয়াম মাঠে বক্তব্য দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এই স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার ভাষণ উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। জনসভায় ১০ লাখ মানুষ উপস্থিত রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যশোর ছাড়াও খুলনা বিভাগের অন্য জেলাগুলো থেকে দলের নেতাকর্মীরা জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভা সফল করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা যশোরের আশপাশের জেলাগুলোতে বর্ধিত সভা করেছেন।

খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম কালের কণ্ঠকে বলেন, জনসভা থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এখন পর্যন্ত যেসব উন্নয়ন হয়েছে সেগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী দিনে নতুন কী কী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাবেন সেই পরিকল্পনার কথাও থাকবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে লোকসমাগম দেখিয়ে মানুষের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে। যশোরের জনসভার মধ্যে দিয়ে এর একটা পাল্টাজবাব দেওয়া হবে। নিকট অতীতের যেকোনো সমাবেশের চেয়ে বেশি লোক জমায়েত করা হবে যশোরের জনসভায়।

যশোর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোরে সর্বশেষ জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পাঁচ বছর পর আবার যশোরে দলীয় জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা উপলক্ষে বর্ণিল সাজে যশোর শহর নতুন রূপ পেয়েছে। স্টেডিয়ামের গ্যালারি রাঙানো হয়েছে লাল-সবুজ রঙে। বিশাল আকৃতির নৌকা বানিয়ে করা হচ্ছে জনসভার মঞ্চ। শহরের সড়কগুলো সংস্কার ও দেয়ালগুলোতে লাগানো হয়েছে নতুন রং। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঝকঝকে চেহারায় ফিরেছে শহর।

যশোর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, জনসভা সফল ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রধানমন্ত্রীর আসার আগের দিন ও জনসভার দিন কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে থাকবে জেলা শহর ও শহরতলি। জনসভা সফল করতে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা, মঞ্চ ও সাজসজ্জা, আপ্যায়ন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, প্রচার ও প্রকাশনা, শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবকসহ আটটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গোটা শহরে সেদিন পা রাখার জায়গা পাওয়া যাবে না। যশোর জেলা ছাড়াও খুলনা বিভাগের সব কটি জেলাসহ আশপাশের জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা জনসভায় আসবেন। ১০ লাখ লোক জমায়েত হবে। ’

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, নৌকার আদলে ১২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের মঞ্চ করা হচ্ছে। তবে বসার জন্য মূল মঞ্চ হবে দৈর্ঘ্যে ৮০ ফুট ও প্রস্থে ৪০ ফুট। মঞ্চে ব্যানারের দৈর্ঘ্য হবে ৭৬ ফুট ও প্রস্থে ১০ ফুট।

জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুখেন মজুমদারকে আহ্বায়ক করে শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জনসভা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে ৪০০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সমাবেশস্থল, সমাবেশস্থলের প্রবেশমুখ ও জনসভায় আগতদের সহযোগিতা করতে শহরের প্রবেশমুখে থাকবেন। ’

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে কয়েক দিন ধরেই চলছে মিছিল, পোস্টারিং, মাইকিং, সভা-সমাবেশ ও প্রচার-প্রচারণা। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জনসভা সফলের লক্ষ্যে বিশেষ প্রস্তুতিসভাও করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সকালে যশোরে পৌঁছবেন। তিনি প্রথমে নৌবাহিনীর একটি কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে জনসভাস্থলে যাবেন। বিমানবন্দর থেকে জনসভাস্থলে আসা-যাওয়ার রাস্তা বাদ রেখে শহরের অন্যান্য সড়কে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। জনসভা ঘিরে শহরজুড়ে প্রচারণার ব্যানার ও পোস্টার লাগিয়েছেন দলীয় নেতারা। শহরের দড়াটানা মোড়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ম্যুরাল চত্বর, গরিবশাহ সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টার টানিয়েছেন তাঁরা। সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবনের দেয়ালে নতুন রং করা হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ। দেয়ালে লেখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বাণী। শহরের মুজিব সড়ক, সিভিল কোর্টের মোড়, শহীদ সড়ক, দড়াটানা মোড়, পুলিশ লাইনস, বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

যশোর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ে বিশাল গণজমায়েতের জন্য বাস, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস মিলিয়ে পাঁচ হাজার যানবাহন আসা ও পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারণ করেছে ট্রাফিক বিভাগ। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ১০টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এমপি-মন্ত্রীদের জন্য চারটি স্থান, অন্য ভিআইপিদের জন্য একটি স্থান এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের বাস, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস পার্কিংয়ের জন্য আরো পাঁচটি পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে বাড়ানো হবে সীমানা।

যশোর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জনসভার দিন শহরে যানবহন প্রবেশ করতে পারবে না। যানজট এড়াতে পথচারীদের জন্য রোডম্যাপ করা হয়েছে।

সর্বশেষ - দেশের খবর