ঢাকা, আজ বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯

উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচ জিতে কোপায় তৃতীয় আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৭ ০৯:০৪:২৪ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৭ ০৯:০৪:২৪

কোপার আমেরিকার তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচ। ব্রাজিলের সাও পাওলোয় মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-চিলি। এ লড়াইয়ের শুরু থেকে দেখা গেল উত্তেজনার ঝাঁঝ। সামাল দিতে রেফারিকেও হতে হয়েছে শক্ত। এমন ম্যাচে শেষ পর্যন্ত অবশ্য শেষ হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনা। আর তাতে এ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪বারের চ্যাম্পিয়নরা এবার তৃতীয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকল।

শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২.০০টায় সাও পাওলোয় শুরু হওয়া ম্যাচে সার্জিও আগুয়েরো ও পাওলো দিবালার নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা জেতে ৩-২ গোলে। চিলির হয়ে একমাত্র গোলটি করেন আর্তুরো ভিদাল।

বল মাঠে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শনিবার আক্রমণের চাপ বাড়ায় আর্জেন্টিনা। যে কারণে দলটি সাফল্যও পেয়ে যায় দ্রুত।

মেসির বুদ্ধিমত্তায় ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে ফাউলের শিকার হয়ে ফ্রি-কিক পেয়েছিলেন। রেফারির বাঁশি শুনেই অপ্রস্তুত চিলির খেলোয়াড়দের মাঝ দিয়ে বল বাড়ান আগুয়েরোকে। ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে আনন্দে মাতেন তিনি। এর ১০ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুন করে কোপা আমেরিকার ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা।  মাঝমাঠ থেকে জিওভানি লো সেলসোর বাড়ানো বল দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে জালে পাঠান দিবালা। এদিকে ৩১তম মিনিটে আবারও প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন দিবালা। কিন্তু এবার আর তিনি পারেননি। মেসির উঁচু করে বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি।

শনিবার শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা ও চিলির খেলোয়াড়রা বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। যে কারণে ম্যাচে ছিল উত্তেজনা। যা ক্রমস  বাড়ছিল। এমনই এক ঘটনায় ৩৭তম মিনিটে লাল কার্ড দেখেন মেসি। বল দখলের লড়াইয়ের পর ডিফেন্ডার গারি মেদেলের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। পরে ভিএআর প্রযুক্তিতে যাচাই করে রেফারি বহিষ্কার করেন মেদেলেকেও।

বিরতির পর মেসিহীন আর্জেন্টিনা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। যে কারণে কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। আর সে সুযোগে চিলি আদায় করে নেয় পেনাল্টি। ৫৯তম মিনিটে লো সেলসো চিলির মিডফিল্ডার চার্লেস আরানগিসকে ফাউল করলে ভিডিও প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে স্পটকিকের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন রেফারি। সে সুযোগে ভিদাল গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর তিন মিনিটের ব্যবধানে আগুয়েরো দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। ৭৭তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে ডি মারিয়ার বাড়ানো বল ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে দুর্বল শট নেন তিনি। পরেরবার বাঁ দিক থেকে তার কোনাকুনি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তারপরও জিততে বেগ পেতে হয়নি তাদের।

গত দুই বছর কোপার ফাইনালের চিলির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ হয়েছিল আর্জেন্টিনার। এবার সেই চিলিকে হারিয়ে কোপা শতবর্ষী আসরে তৃতীয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল মেসিদের।