ঢাকা, আজ রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯

১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সার্জেন্ট কিবরিয়ার বাবার রিট

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-২৩ ১৫:২২:৩৩ || আপডেট: ২০১৯-০৭-২৩ ১৫:২২:৩৩

যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যান চাপায় ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুতে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট আবেদন করেছেন নিহত কিবরিয়ার বাবা। মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় নিহত কিবরিয়ার বাবার পক্ষে আইনজীবী মোঃ ফাইজুল্লাহ এই আবেদন করেন।

রিটে যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যান চাপায় ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুতে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তা জানতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক ও যোগাযোগ সচিব, পুলিশের আইজিপি, পুলিশ কমিশনার (বরিশাল) ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মোঃ খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান আইনজীবী।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই সোমবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্নকাঠি জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। ঘটনার দিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা-মেট্রো-উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত দেন সার্জেন্ট কিবরিয়া। কাভার্ডভ্যানটি সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন।

তখন কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া মোটরসাইকেল আরোহী সার্জেন্ট কিবরিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ধাওয়া করে চালক জলিল মিয়াসহ কাভার্ডভ্যানটি আটক করে।

এদিকে গুরুতর আহত কিবরিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সেদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিবরিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরপরই তাকে জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরদিন ১৬ জুলাই মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া প্রায় সাড়ে ৪ বছর ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী ইউনিয়নে। তার বাবা ইউনুস সরদার সুবিদখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক।